মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলীয় প্রদেশ সাফিতে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ২এম এ তথ্য জানিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, রাজধানী রাবাত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সাফিতে কাদা ও পানির স্রোত রাস্তাঘাটে নেমে আসে। এতে গাড়ি, আবর্জনার বাক্সসহ নানা বস্তু ভেসে যেতে দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঐতিহাসিক এই পুরোনো শহরটিতে অন্তত ৭০টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বন্দরনগরী সাফিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হামজা চাদৌনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি কালো দিন।’ তবে সন্ধ্যার দিকে পানির স্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মরক্কো টানা সপ্তম বছরের মতো তীব্র খরার মুখোমুখি হলেও এর আগে দেশটিতে আকস্মিক বন্যা ও চরম আবহাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের জেনারেল ডিরেক্টরেট (ডিজিএম) জানিয়েছে, ২০২৪ সাল ছিল মরক্কোর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর, যেখানে গড় বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল প্রায় ২৪.৭ শতাংশ।