শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক ও রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

0
63

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অন্যতম যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান টেলিফোনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে এই দুঃসংবাদটি জানান।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি সংবাদ নিয়ে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কিছুক্ষণ আগে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান আমাকে টেলিফোনে এই হৃদয়বিদারক সংবাদটি জানিয়েছেন।”

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শোক প্রকাশ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিককে মহান রাব্বুল আলামিন শহিদ হিসেবে কবুল করুন—এই দোয়া করি। শরিফ ওসমান হাদির এই অকাল মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। তাঁর প্রয়ান দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

প্রধান উপদেষ্টা এসময় ঘোষণা করেন যে, শহিদ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।

তিনি আরও জানান, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে আগামী শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সাথে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে শহিদ ওসমান হাদির রূহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদির চিকিৎসায় তারা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, তিনি নিজে হাদির পরিচর্যা করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়মিত চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর দিয়েছেন।

সবশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।

শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে পল্টন কালভার্ট রোডে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়েছিল।