পশ্চিম তীরে নতুন ১৯টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিল ইসরায়েল

0
52

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই প্রস্তাবিত এই রাষ্ট্রের অপর অংশ পশ্চিম তীরে নতুন ১৯টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিবিদ এবং দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্মোতরিচ বলেছেন, তিনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং গতকাল সেটি পাস হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকে বাধা দিতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, স্মোতরিচ নিজেও পশ্চিম তীর এলাকায় বসবাসকারী একজন দখলদার বসতিস্থাপনকারী বা সেটলার।

সৌদি আরব ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন যে, পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কার্যক্রমের এই ধারাবাহিক সম্প্রসারণ একদিকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে গত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখল করছে ইসরায়েল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে গত প্রায় তিন বছরে এই কার্যক্রমে রীতিমতো উল্লম্ফন ঘটেছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে নেতানিয়াহু সরকার গঠনের পর থেকে গত প্রায় ৩ বছরে পশ্চিম তীর এলাকায় ইহুদি আবাসন বা আবাসিক ভবনের সংখ্যা ১২৮টি থেকে বেড়ে ১৭৮টিতে পৌঁছেছে, অর্থাৎ শতকরা হিসেবে বসতি স্থাপনের হার বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে এটি নতুন ১৯টি বসতি অনুমোদনের আগের হিসাব। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে পশ্চিম তীরে গত তিন বছরে ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা পৌঁছাবে ৬৯টিতে। বিবিসিকে স্মোতরিচ জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকে পুরোপুরি ‘কবর দেওয়ার’ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনবিরোধী ইসরায়েলি সংস্থা পিস নাও-এর তথ্য অনুসারে, বর্তমানে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা ১৬০টি। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছেন।

সূত্র: বিবিসি