আসন্ন বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানিয়েছেন, উৎসবের সময় কোনো ধরনের আতশবাজি ফোটানো যাবে না এবং রাস্তা অবরোধ বা ‘ব্লক’ করে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। প্রতিটি গির্জায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়টি নিয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়। উপদেষ্টা জানান, সরকার এই হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এরই মধ্যে মূল হোতা ফয়সাল করিমের স্ত্রী, মা-বাবা ও শ্যালকসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুততম সময়ে প্রধান আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ এর অগ্রগতি সম্পর্কে উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৫০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দমনে এই অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।