জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন: শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশী পণ্য

0
84

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার ফোনালাপে এই সফলতার কথা জানানো হয়। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বিশাল সংখ্যক পণ্য জাপানের বাজারে কোনো শুল্ক ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা লাভ করবে। এর বিপরীতে জাপান বাংলাদেশে ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে একই ধরনের সুবিধা পাবে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। চুক্তির প্রথম দিন থেকেই আরএমজি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি এতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধাও যুক্ত থাকবে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

টেলিফোন আলাপের সময় বাণিজ্য উপদেষ্টার সাথে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের মতো বড় বাজারের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। এটি কেবল রপ্তানি আয়ই বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণেও সহায়ক হবে।