দীর্ঘ দেড় যুগ পর বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা বিশেষ করে বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নিরাপদ আগমন নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম বলেন, “তারেক রহমান একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাঁর নিরাপত্তায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা প্রটোকল নিশ্চিত করা হয়েছে।” ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত বাহিনী ‘সোয়াট’ (SWAT) টিমের সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য সাদা পোশাকে মোতায়েন থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। তারেক রহমানের বাসভবন ও কার্যালয়ের আশপাশেও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
এদিকে সরকারি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য দলের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী টিম কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ভিড় সামলাতে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা বিভাগ একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রটোকল প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে রাজধানীবাসী।