আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে দেশের কারাগার ও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ (সংশোধিত ২০২৫)-এর বিধি ১০ক অনুসারে, এই ভোটাররা ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং’ (আইসিপিভি) পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকাটি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষ ও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে এবং নিবন্ধনের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (https://prisoner.ocv.gov.bd/login) ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষ বা জেলখানা থেকে দুই জন করে প্রতিনিধি মনোনীত করা হবে, যারা ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। নিবন্ধন শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিল ও স্বাক্ষরসহ অনুমোদিত ভোটার তালিকা ইসিতে জমা দেবে এবং মনোনীত প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচনি পোর্টালে আপলোড করবেন।
নিবন্ধিত ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোট কক্ষ বা গোপন কক্ষ প্রস্তুত করে ভোটের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে। ব্যালট পেপারে কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না, বরং বরাদ্দকৃত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে। ভোটাররা তাদের সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাবেন।
ভোটাররা পোস্টাল ব্যালট পেপারে মুদ্রিত প্রতীকের পাশে টিক (✓) বা ক্রস (×) চিহ্ন দিয়ে তাদের ভোট প্রদান করবেন। একই পদ্ধতি গণভোটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যেখানে হ্যাঁ/না অপশনের পাশে ভোট দিতে হবে। ভোট দেওয়ার আগে ভোটারকে ঘোষণাপত্রে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে স্বাক্ষর করতে হবে; যদি কেউ স্বাক্ষর করতে অক্ষম হন, তবে অন্য একজন ভোটার তা সত্যায়ন করবেন। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপার দুটি ছোট খামে ভরে বন্ধ করতে হবে। এরপর ভোটকৃত খাম এবং স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রটি হলুদ রঙের রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা-সংবলিত খামে ঢুকিয়ে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থানে জমা দিতে হবে। ভোট প্রদান প্রক্রিয়া শেষে এসব খাম নিরাপদে সংরক্ষণ করে দ্রুত নিকটস্থ ডাক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। ডাক বিভাগের প্রতিনিধিরা কোনো ডাক মাশুল ছাড়াই (যা বাংলাদেশ সরকার বহন করবে) দ্রুত খামগুলো নির্বাচনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছে দেবেন।