‘এমপাওয়ারিং ট্রানজিশন, বিল্ডিং ডেমোক্রেসি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গণতন্ত্র বিষয়ে আন্তর্জাতিক আন্তঃবিষয়ক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। সম্মেলন চলবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
সম্মেলনে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং সহনশীল সমাজ গঠনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, গণতন্ত্র কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই পথে অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক, তবে ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে টেকসই করা সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘রূপান্তর’ মানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা, যার সহজ বা তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। নির্বাচন, সংস্কারের স্থায়িত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বহুমাত্রিক ও আন্তঃবিষয়ক আলোচনা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন পলিটিক্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (পিপিএসআরএফ) সভাপতি ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। উদ্বোধনী পর্বে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনের জন্য জমা পড়া প্রায় ১৬৫টি গবেষণাপত্রের মধ্য থেকে বাছাই করে ৬৭টি প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এতে অনলাইনে প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন এবং বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশ সম্মেলনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।