না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া

0
93

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে, বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এক শোকবার্তায় জানানো হয়, ফজরের নামাজের পরপরই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। দলটির পক্ষ থেকে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, তিনি জটিল ও সংকটময় সময় পার করছিলেন।

১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদার। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা শেষে ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর বিএনপির সংকটময় সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে বিএনপির সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ এই আন্দোলনের সময় তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী করা হয়।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন এবং তার নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তার শাসনামলে শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু হয়। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়।

১৯৯৬ সালে নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চারদলীয় জোট গঠন করে ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। যে সব আসনে তিনি নির্বাচন করেছেন, প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। গণতন্ত্রে অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে তিনি নানা সম্মাননা লাভ করেন।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সব মামলায় খালাস পান।

দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ ও প্রভাবশালী ভূমিকা রেখে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।