দক্ষিণ ও মধ্য মেক্সিকোতে ৬.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এএফপি জানায়, কম্পনের ফলে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকোতে নতুন বছরের প্রথম প্রেস ব্রিফিং চলছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম। হঠাৎ করেই ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যালার্ম বেজে ওঠে, ফলে সাময়িকভাবে ব্রিফিং বন্ধ হয়ে যায়।
মেক্সিকোর জাতীয় ভূকম্পন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের সান মার্কোস শহরের কাছাকাছি, যা প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলবর্তী পর্যটন শহর আকাপুলকোর নিকটে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়। এর অবস্থান ছিল গুয়েরেরোর পাহাড়ি এলাকায় রানচো ভিয়েহো অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমে।
কম্পন শুরু হতেই মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর বাসিন্দা ও পর্যটকেরা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। অনেকেই ভবন ধসের আশঙ্কায় খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
কিছুক্ষণ পর আবার প্রেস ব্রিফিং শুরু করে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম জানান, তিনি গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদোর সঙ্গে কথা বলেছেন। গভর্নর সালগাদো জানান, গুয়েরেরোতে ৫০ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন।
অন্যদিকে, রাজধানী মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা জানান, সেখানে ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের পর কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
মেয়র ব্রুগাদা নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সব সময় ‘লাইফ ব্যাকপ্যাক’ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেন। মেক্সিকোর জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যাকপ্যাকে টর্চলাইট, রেডিও, বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, গরম কাপড় এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ফটোকপি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে দুর্যোগের পর প্রাথমিক কয়েক ঘণ্টা নিরাপদে টিকে থাকা যায়।
সূত্র: এএফপি

