সরকারের পক্ষপাতিত্বে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা: নাহিদ ইসলাম

0
36

সরকার বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে আগত নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেল প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি বড় ও শক্তিশালী মিশন পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হোক এবং ফলাফল ঘোষণার পর সবাই যেন তা মেনে নেয়—যাতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নির্বিঘ্ন থাকে।

তিনি জানান, ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পাশাপাশি সব দলের সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে সমান সুযোগ রয়েছে—এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের নেই, এমনকি এনসিপিরও নয়। তার অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে অসমতা সৃষ্টি করতে পারে।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে যেসব বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেগুলোও কমিশনকে অবহিত করা হবে।

ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ এসেছে। পাশাপাশি পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টাও হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। তবে এনসিপি মাঠে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ২১ জানুয়ারির পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার করবে।

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এনসিপির অবস্থান শিগগিরই স্পষ্ট হবে এবং আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তার দাবি, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে এবং আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না।