ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে তলব করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা আয়োজন এবং কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি ও ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ প্রদর্শনের অভিযোগে তাকে এই তলব করা হয়েছে।
আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত জানুয়ারিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় একটি নির্বাচনী সভায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের উপস্থিতিতে বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা। এ কার্যক্রম রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
এতে আরও বলা হয়, ওই সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিলে রুমিন ফারহানা তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি যদি না বলি এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙ্গুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে শুনব না।’
রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠিতে দাবি করা হয়, জনসমক্ষে ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ প্রদর্শনের পাশাপাশি তার কর্মী-সমর্থকেরাও মারমুখী আচরণ করেন। এতে ‘মব’ বা গণজমায়েত সৃষ্টি হয়ে বিচারিক কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি প্রদান করা হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ঘটনার ভিডিও ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার স্বার্থে আগামী ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বা তার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।