সিইসিকে স্মারকলিপি: নির্বাচনকালীন ২৩ দিন সব পরীক্ষা স্থগিতের দাবি

0
42

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে এবং তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন একদল চাকরিপ্রার্থী।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জালাল আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিইসির দপ্তরে এই দাবি জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনামুল হক জমিদার, আল আমিন, নাইমুল হাসান দুর্জয় ও মাহমুদুল হাসান। তারা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে জালাল আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তরুণ ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন রাষ্ট্র পরিচালনায় মত প্রকাশের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন (২০১৮ ও ২০২৪)-এর আইন ও আদালত সেলের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে তরুণদের মানসিক চাপ সম্পর্কে তিনি অবগত। নির্বাচনকালীন সময়ে ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় তরুণ ভোটাররা দ্বিমুখী চাপে রয়েছেন। একদিকে নাগরিক দায়িত্ব, অন্যদিকে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা—এই পরিস্থিতি নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।

জালাল আহমদের দাবি, এবারের নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব চাকরি পরীক্ষা স্থগিত করা জরুরি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রয়োজনে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে এসব পরীক্ষা স্থগিত করতে পারে।

তিন দফা দাবি
১. আগামী ২১ জানুয়ারির পর থেকে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত রাখা।
২. একই সময়ের মধ্যে দেশের সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা।
৩. নির্বাচনকালীন সময়ে নতুন কোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা না করার নির্দেশনা প্রদান।