রিয়াল অ্যারেনায় নাটকীয় ও টানটান উত্তেজনার ম্যাচে লা লিগার শীর্ষ দল বার্সেলোনাকে ২–১ গোলে হারিয়েছে ১০ জনের রিয়াল সোসিয়েদাদ। টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর মৌসুমে ১২ ম্যাচে প্রথম হার দেখল কাতালান জায়ান্টরা।
পুরো ম্যাচজুড়েই বার্সেলোনা ছিল আক্রমণাত্মক ও প্রভাবশালী। তবে ভাগ্য ও ভিএআর সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে যায়। সোসিয়েদাদ এগিয়ে যাওয়ার আগে বার্সেলোনার তিনটি গোল বাতিল হয় এবং একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত অফসাইডের কারণে প্রত্যাহার করা হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা মার্কাস র্যাশফোর্ড ৭০ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরালেও এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গনসালো গুয়েদেসের গোলে আবার লিড নেয় সোসিয়েদাদ। শেষ দিকে কার্লোস সোলার সরাসরি লাল কার্ড দেখলেও ১০ জন নিয়েই জয় ধরে রাখে স্বাগতিকরা।
হ্যান্সি ফ্লিকের দল ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও একের পর এক সুযোগ নষ্ট করতে থাকে। বিরতির পর তিনবার গোলফ্রেমে বল লেগে ফিরে আসে। সোসিয়েদাদ গোলকিপার আলেহান্দ্রো রেমিরো একের পর এক দুর্দান্ত সেভে দানি ওলমো ও রবার্ট লেভানডোভস্কিকে হতাশ করেন।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ওয়ারজাবালের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ইয়ামাল, পেদ্রি ও ফের্মিন লোপেসের প্রচেষ্টা সফল হয়নি ভিএআর ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায়। ৩২ মিনিটে গুয়েদেসের ক্রস থেকে ব্যাক পোস্টে ভলিতে গোল করে সোসিয়েদাদকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল। বিরতির ঠিক আগে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দিলেও ভিএআর পর্যালোচনায় সেটিও বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার আক্রমণ আরও জোরালো হয়। ওলমোর দুটি শট পোস্টে লেগে ফেরে, লেভানডোভস্কির হেডারও রেমিরোর আঙুলের ডগায় পোস্টে লাগে। শেষ পর্যন্ত ৭০ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে র্যাশফোর্ড হেডে গোল করে সমতা ফেরান। তবে কিক-অফের পরপরই বার্সা রক্ষণভাগের ভুলে গুয়েদেস আবার গোল করলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
এরপর বার্সেলোনা ছন্দ হারায়। সোসিয়েদাদ ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ দিকে জুলস কুন্দের হেডার ক্রসবারে লাগে। ৮৮ মিনিটে সোলার লাল কার্ড দেখলেও অতিরিক্ত ৯ মিনিটের চাপ সামলে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে সোসিয়েদাদ।
এই জয়ে সোসিয়েদাদ উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থানে। আর বার্সেলোনার হারে লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র এক পয়েন্টে।