ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট বাংলাদেশকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) খারিজ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
শুনানির শুরুতেই আদালত মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং স্পষ্টভাবে জানায়, এ ধরনের বিষয় বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত নয়। আদালত বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, যা নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বের আওতায় পড়ে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের নেই। মামলায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল, যা আদালতের রিট এখতিয়ারের বাইরে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের মামলা জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং মূল্যবান বিচারিক সময় নষ্টের দায়ে আর্থিক জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে।
বিসিসিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
শুনানিকালে আবেদনকারী নিজেকে একজন আইন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পাকিস্তানের একটি আদালতের রায় উদ্ধৃত করার চেষ্টা করলে বেঞ্চ তা প্রত্যাখ্যান করে। আদালত বলেন, ভারতীয় আদালত অন্য দেশের বিচারিক নজির অনুসরণ করে না।
সব প্রশ্ন ও আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারী মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে মামলাটি খারিজ করে দেয় এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক আইনি উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করার দাবির কোনো আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর বর্তমানে কোনো ধরনের আইনি বাধা নেই।