বেলুচিস্তানে সমন্বিত হামলার পর দুই দিনের অভিযানে ১৪৫ জঙ্গি নিহত

0
40
বেলুচিস্তানে সমন্বিত হামলার পর দুই দিনের অভিযানে ১৪৫ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একাধিক সমন্বিত বন্দুক ও বোমা হামলার পর দুই দিনব্যাপী নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ১৪৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ বুগটি। রোববার তিনি এ তথ্য জানান। হামলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকসহ প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছে বলেও বলা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তানে—যার সীমান্ত ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে—নিরাপত্তা বাহিনী, সাধারণ মানুষ এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলা তীব্র হয়েছে। শনিবার হামলাকারীরা সাধারণ পোশাকে হাসপাতাল, স্কুল, ব্যাংক ও বাজার এলাকায় ঢুকে গুলি চালায় বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের জুনিয়র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তালাল চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রতিটি ঘটনায় সাধারণ মানুষের ভিড়কে “ঢাল” হিসেবে ব্যবহার করেছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি এ অভিযানকে ‘হিরোফ’ বা ‘কালো ঝড়’ নামে উল্লেখ করে দাবি করেছে, প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালানোই ছিল তাদের লক্ষ্য।

প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় পুলিশের কিছু স্থাপনা ও আশপাশের এলাকায় পোড়া যানবাহন এবং গুলির চিহ্ন দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ বুগটির দাবি, হামলাগুলোতে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ৪১ জন ও শনিবার ৯২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর হিসাবে দুই দিনে নিহত জঙ্গির সংখ্যা ১৩৩, তবে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ১৪৫।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোয়েটা, গওয়াদার, মাস্তুঙ্গ ও নুশকি জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় একই সময়ে হামলা হয়। হামলাকারীরা ফ্রন্টিয়ার কর্পসের সদর দপ্তরসহ নিরাপত্তা স্থাপনায় গুলি চালায়, আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা করে এবং কিছু এলাকায় সড়ক সাময়িকভাবে অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা, পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ব্যাপক অভিযান চালায় বলে জানানো হয়।

এদিকে বিএলএ দাবি করেছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা করেছে এবং ১৮ জনকে অপহরণ করেছে। তবে রয়টার্স বলেছে, তারা এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, হামলায় নারী জঙ্গিরাও অংশ নিয়েছে এবং জঙ্গিরা ক্রমেই সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করছে। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কোনো শহর বা কৌশলগত স্থাপনা জঙ্গিদের দখলে যেতে দেওয়া হয়নি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার জন্য “ভারত সমর্থিত জঙ্গি”দের দায়ী করলেও ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, পাকিস্তানের অভিযোগ “ভিত্তিহীন” এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানে তাদের মনোযোগী হওয়া উচিত।

হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকার একে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে পাকিস্তানের পাশে থাকার কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বালুচ লিবারেশন আর্মিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

সূত্র: রয়টার্স