লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৫৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
আইওএম জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নৌকাটির মাত্র দু’জন নারী যাত্রী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। তারা দু’জনই নাইজেরিয়ার নাগরিক। শুক্রবার লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে। সংস্থাটি জানায়, নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরা ছিলেন, যারা ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হয়েছিলেন।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-জাওইয়া থেকে নৌকাটি যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকে পড়ে এবং একপর্যায়ে সেটি ডুবে যায়। বেঁচে যাওয়া অভিবাসীদের বরাতে আইওএম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টার দিকে ত্রিপোলির পশ্চিমের আল-জাওইয়া থেকে রাবারের নৌকাটি ছেড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরে জুওয়ারার উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইওএম। শুধু গত জানুয়ারি মাসেই মধ্য-ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ শীতকালীন আবহাওয়ার মধ্যে একের পর এক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
উদ্ধার হওয়া দুই নারীর একজন আইওএমকে জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন। অপর নারী জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তার দুই শিশুই মারা গেছে। আইওএমের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দু’জনকেই জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন।
২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর থেকে দেশটি ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য প্রধান প্রস্থানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী ও চোরাকারবারি চক্রগুলো অভিবাসীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পক্ষ, বিশেষ করে মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর হাতে অভিবাসীরা নির্যাতন, মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন।
আইওএম জানিয়েছে, পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও সমুদ্রযাত্রার জন্য অনুপযোগী নৌকায় মানুষ তুলে দিয়ে বিপুল মুনাফা করছে। এর ফলে সমুদ্রে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সংস্থাটি এসব মৃত্যুরোধে পাচার ও চোরাচালান চক্র ভেঙে দিতে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরির ওপরও জোর দিয়েছে।