লক্ষ্মীপুরের ৪ আসনে ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

0
33
লক্ষ্মীপুরের ৪ আসনে ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের কারও জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ হয়নি।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলপত্র যাচাই করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে তারা প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব এবং হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-১ আসনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ এবং হাতপাখার প্রার্থী জেলা ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি জাকির হোসেন পাটওয়ারীর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে এগিয়ে রয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান মাহমুদ পেয়েছেন ৪১৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পাটওয়ারী ১১ হাজার ১৫৬, এনডিএম’র আলমগীর হোসাইন ১০৬, গণঅধিকার পরিষদের কাউছার আলাম ১১৫ এবং বাসদের বিল্লাল হোসেন ২০৩ ভোট। ২ লাখ ৮১ হাজার ৩০২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬২ জন, ভোট পড়েছে ৫৭.৯৩ শতাংশ। এখানে জামানত ফেরত পেতে ন্যূনতম প্রায় ২০ হাজার ৩৭০ ভোট প্রয়োজন ছিল।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট। অন্যদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার ৪২৪, নাগরিক ঐক্যের রেজাউল করিম ২৫৩, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির ইব্রাহিম মিয়া ১ হাজার ৭৮০, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া ২৮৮ এবং ইসলামী আন্দোলনের হেলাল উদ্দিন ৬ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৬ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭০ জন ভোট দিয়েছেন, ভোট পড়েছে ৬০.১৭ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে ন্যূনতম প্রায় ৩৭ হাজার ১৫৮ ভোট লাগত।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির একেএম মহিউদ্দিন ১ হাজার ৩৩৯, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইব্রাহিম ৫ হাজার ৫১, এলডিপির মো. শামছুদ্দিন ৪৮৮ এবং এনপিপির সেলিম মাহমুদ ২৮৯ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৩ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৭২ হাজার ৪৩০ জন, ভোট পড়েছে ৬১.২৯ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে ন্যূনতম প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩ ভোট প্রয়োজন ছিল।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম মঞ্জুর মোর্শেদ ৩৯৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ ২১ হাজার ১০৩, জেএসডির তানিয়া রব ২২ হাজার ৪০, স্বতন্ত্র নুরুল হুদা চৌধুরী ৪২২, বাসদের মিলন কৃষ্ণ মন্ডল ৪৪০, গণঅধিকার পরিষদের রেদোয়ান উল্লাহ ২৫৯ এবং স্বতন্ত্র শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল ৪১১ ভোট পেয়েছেন। ৪ লাখ ১৮ হাজার ১৫৮ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৭ জন ভোট দিয়েছেন, ভোট পড়েছে ৫৭.৬৩ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে ন্যূনতম প্রায় ৩০ হাজার ১২০ ভোট প্রয়োজন ছিল।

নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটের কম পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। লক্ষ্মীপুরের চার আসনে প্রয়োজনীয় ভোটসীমা অতিক্রম করতে না পারায় ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।