বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদেরসাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সর্বদা পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের জনগণ ও তৎকালীন সরকার বাংলাদেশকে অকুন্ঠ সমর্থন জুগিয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনিস্টার ডেমোক্রেসিকে অনুসরণ করে থাকে এবং ১৯৯১ সালে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
স্পিকার আরও বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক, যেখানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমান সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। বিশেষ করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বর্তমানে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় হাইকমিশনার বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ব্রিটিশ সরকার যেকোনো ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাতকে নিরুৎসাহিত করে এবং তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক অভিবাসন সংকট ও এর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।