চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে রাজধানীতে সাঁড়াশি অভিযান : অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়—ডিএমপি কমিশনার

0
21
চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে রাজধানীতে সাঁড়াশি অভিযান : অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়—ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং অনলাইন জুয়াড়িদের মূলোৎপাটনে গত ১ মে থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ এখন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। রোববার (৩ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপি তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে তালিকাভুক্ত ৫৮ জন ও তালিকা বহির্ভুক্ত ৯৪ জনসহ মোট ১৫২ জন চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং সক্রিয় কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদের ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে তাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

ডিএমপির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনার জানান, অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করতে ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম, সাইবার মনিটরিং এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বসিলা ও কারওয়ান বাজারের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং বিশেষ মনিটরিং সেলের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে আরও ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অপরাধী যে-ই হোক এবং তাদের পরিচয় বা প্রভাব যেমনই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। যেকোনো ধরনের অপরাধ বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস, এন, মো. নজরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নাগরিকদের নিরাপত্তায় সর্বদা জাগ্রত, দৃঢ় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here