পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই ঐতিহাসিক জয়ে রাজ্যের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি বিজেপির নতুন সরকারের লক্ষ্য ও ভিশন স্পষ্ট করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসীকে প্রণাম জানিয়ে বলেন, বিজেপির অঙ্গীকার হলো একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে তারা বদ্ধপরিকর এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর রাজ্য গড়ে তোলাই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে একটি ‘বিকশিত ও আত্মনির্ভর’ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভাষণে নতুন সরকারের রূপরেখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য বিজেপির পরবর্তী কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিল। তবে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন? নির্বাচনে কাউকে ‘মুখ’ করে লড়াইয়ে নামেনি বিজেপি।
নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বলেছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন পশ্চিমবঙ্গেরই ভূমিপুত্র। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, যিনি রাজ্যে জন্মেছেন এবং বাংলা মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, এমন ব্যক্তিই হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।
নির্বাচনী প্রচারপর্বে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তবে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার নাম ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। আলোচনায় আছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আবার রাজ্য সভাপতি ও শুভেন্দু অধিকারীর বাইরে তৃতীয় কাউকে সামনের সারিতে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। প্রচারের সময় উত্তরবঙ্গকে বিজেপি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায়, সেই অঞ্চল থেকে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় কি না, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। তবে সব জল্পনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা করছে রাজ্যবাসী।