ফরিদপুরে পরকীয়ার জেরে মা-মেয়েকে হত্যা: গ্রেফতার ১

0
3
ফরিদপুরে পরকীয়ার জেরে মা-মেয়েকে হত্যা: গ্রেফতার ১

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার পর মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় রোববার কোতয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম এবং পুলিশ পরিদর্শক (ডি-ওয়ান) মোঃ মোশারফ হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ মে ফরিদপুর-রাজবাড়ী সীমান্তবর্তী চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন জাহানারা বেগম (৩০) এবং তার পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যা সামিয়ারা। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী এলাকায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে মোঃ উজ্জ্বল খান (৩৮) নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি পুলিশের। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ রাতে চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান জাহানারা বেগম ও তার শিশু কন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নিজের বাড়ি থেকে কোদাল এনে গর্ত খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত জাহানারা বেগমের স্বজন মোঃ লালন মোল্লা কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে উজ্জ্বল খানকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলার সকল দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তারা। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here