চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে রণক্ষেত্র বাকলিয়া: পুলিশের গাড়িতে আগুন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

0
3
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে রণক্ষেত্র বাকলিয়া: পুলিশের গাড়িতে আগুন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় তিন বছরের এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকা থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয় যে সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করেন, যেখানে অভিযুক্ত মনির অবস্থান করছিলেন। মনির স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন এবং তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন—এমন তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ধর্ষকের তাৎক্ষণিক বিচারের দাবি জানায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায় এবং অভিযুক্ত মনিরকে আটক করে। তবে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস ছুড়লে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী একটি বড় ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে থানার সামনে পুলিশের আরেকটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জনরোষের মুখে পুলিশ আসামিকে নিয়ে এলাকা ছাড়তে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে কৌশল হিসেবে রাত ১১টার পর ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘুটঘুটে অন্ধকারের সুযোগে অভিযুক্ত মনিরকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে, কঠোর নিরাপত্তায় বিক্ষুব্ধ জনতার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাকলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আসামি থানায় নেওয়ার খবর ছড়ালে মাঝরাতে উত্তেজিত জনতা বাকলিয়া থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টাও করে।

সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ ও লাইভ সম্প্রচারের সময় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও স্থানীয়দের ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মামুন আবদুল্লাহ, নোবেল হাসান এবং চ্যানেল২৪-এর রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম তামিম। নোবেল ও মামুনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল কাইয়ুম স্থানীয়দের তোপের মুখে একটি ভবনের ছাদে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার পান।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো করে পুলিশকে অবরুদ্ধ করেছিল। তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আসামিকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। তবে সিটিজেন ফোরাম ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় আসামিকে নিরাপদে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here