বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতের মোট অর্থের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন আর কার্যত ব্যবহারের মধ্যে নেই। এসব অর্থকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ বা এনপিএল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এর বড় অংশের বিপরীতে কার্যকর জামানত নেই।
তিনি বলেন, “যে অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, তার বিপরীতে পর্যাপ্ত সম্পদ বা নিরাপত্তা নেই। এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, কীভাবে এসব অর্থ পুনরুদ্ধার করা যায়।”
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল মোস্তাকুর রহমানের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। এ সময় তিনি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।
গভর্নর বলেন, দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, অর্থ পাচার এবং আমানতকারীদের আস্থাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সহজ নয় এবং এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবুও সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান গভর্নর।