অনলাইন জুয়া চক্রের ৬ সদস্য আটক

0
3
অনলাইন জুয়া চক্রের ৬ সদস্য আটক

অনলাইন জুয়া চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় জড়িত। প্রথমে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা থেকে আটক করা হয় আরও তিনজনকে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৬০৬টি বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট থাকা ৬৭টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে পুলিশ।

আটক ছয়জন হলেন- মো. আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী, কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ডিবি অনলাইনে পরিচালিত একাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসব জুয়ার প্ল্যাটফর্মে লেনদেন পরিচালনার জন্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কার্যক্রমের সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস পরিচালনার কাজে অনেকগুলো পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে থাকে। উল্লেখযোগ্য কিছু পেমেন্ট কোম্পানি হলো Pay Kashma, Gopay, Lucky pay, LQ pay, XE pay, Cool pay প্রভৃতি। বাংলাদেশ কেন্দ্রিক জুয়ার সাইটে যেসব পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে তার অধিকাংশই চীনের নাগরিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এসব পেমেন্ট কোম্পানির বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় প্রচলিত লেনদেনের মাধ্যম প্রয়োজন হয়। যার কারণে তারা অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে। ব্যাংকের তুলনায় সহজলভ্য এবং দুর্বল মনিটরিংয়ের সুযোগে কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব পেমেন্ট কোম্পানি এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকে।

ডিবি পুলিশ জানায়, এই চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা লেনদেন করতো। পরবর্তীতে এ টাকা বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হতো। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন হয় বলেও জানায় ডিবি। সংঘবদ্ধ চক্রটির বাংলাদেশ অংশের মূলহোতা আসামি আরিফুল ইসলাম রিফাত। তার অধীনেই বাকিরা উক্ত Gopay নামক কোম্পানির হয়ে কাজ করে থাকে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত বাকি সদস্যদের ধরতেও কাজ করছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here