গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৪, জানাজায়ও ড্রোন হামলা

0
0
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৪, জানাজায়ও ড্রোন হামলা

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন।

এসব হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা এবং আল-আওদা হাসপাতালের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে একটি জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ সময় একটি ইসরায়েলি ড্রোন সেখানে হামলা চালায়। নিহত ব্যক্তিরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক এক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

এদিন গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এ ছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে, আহত হয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারীরও মৃত্যু হয়েছে।

গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বেড়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত মাসে ৪০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ইসরায়েলি দৈনিক হারেটজের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একজন শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: আলজাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here