গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন প্রতিদিনই আরও কঠিন হয়ে উঠছে। খাবারের সংকটে অনেক পরিবার এখন দিনে মাত্র একবেলা খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গাজার মানুষের দুর্বিষহ বাস্তবতা।
গাজার দেইর আল-বালাহ অঞ্চলের একটি তাঁবুতে চার মেয়ে ও স্বামীসহ বসবাস করছেন ইয়াসমিন ঈদ নামে এক ফিলিস্তিনি নারী। কাঠি ও স্ক্র্যাপ কাগজ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ডাল সেদ্ধ করতে দেখা যায় তাকে। তার অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা ক্ষুধার তাড়নায় আঙুল চুষে, আর আমি তাদের পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াই।’
ইয়াসমিন জানান, গাজার কেন্দ্রস্থলে থাকা সত্ত্বেও ত্রাণের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। স্থানীয় বেকারিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক ব্যাগ রুটির দাম ১৩ ডলারের বেশি হয়ে গেছে। ত্রাণ আসার আগেই সব খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গাজার উত্তরাংশে ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেখানে চরম দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন (ওএইচসিএইচআর) গাজার পরিস্থিতিকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ—খাদ্য, পানি ও জ্বালানি সরবরাহে ইচ্ছাকৃত বাধা দিচ্ছে। এমন নীতিগুলো যুদ্ধাপরাধের লক্ষণ বলে ইঙ্গিত দিয়েছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গাজায় নিক্ষিপ্ত বোমার পরিমাণ দুটি পারমাণবিক বোমার সমান। এতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, কৃষিক্ষেত্র ধ্বংস হয়েছে এবং বিষাক্ত দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৪ হাজার ৫৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ এটিকে মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলবিরোধী হামলার পর থেকে গাজায় তীব্র হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। এতে গাজার বেশির ভাগ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীর জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

