বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে প্রতিবাদ জানালো ক্যাব

0
3
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে প্রতিবাদ জানালো ক্যাব

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন সংক্রান্ত গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিইআরসিতে জমা দেওয়া মতামতে ক্যাব বলেছে- বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে চরম অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হলে তা জনজীবনে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস, অস্বচ্ছতা, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের দায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ক্যাব জানিয়েছে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়াবে। এর চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

গণশুনানিতে ক্যাব ৬ দফা সুপারিশও তুলে ধরে। সুপারিশগুলো হলো—

১. আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশের ভোক্তারা তার পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের যৌক্তিক পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

২. বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়। এসব খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বিদ্যুতের দাম বাড়ালে শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি হবে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৪. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে চরম চাপ সৃষ্টি করবে।

৫. বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অপচয় কমানোর মাধ্যমে ব্যয় হ্রাসে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

৬. আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস এবং বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করে ভোক্তাবান্ধব ও বাস্তবসম্মত মূল্যনীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাব আশা প্রকাশ করে বলেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গণশুনানিতে সাধারণ ভোক্তাদের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি থেকে বিরত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here