চার বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) লেনী ফ্যাশন লিমিটেড এবং লেনী এ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা পাওনাদি আদায়ের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে ওই মহাসড়ক দিয়ে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকাল থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ডিইপিজেডের সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, প্রায় চার বছর আগে করোনার দোহাই দিয়ে ২০২০ সালে লেনী ফ্যাশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে কারখানা লে-আউট ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকদের পাওনা ওই বছরের জানুয়ারী মাসের বেতন এবং সার্ভিস বেনিফিট না দিয়ে কর্তৃপক্ষ তালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে আন্দোলনের মুখে বার বার শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু বিগত চার বছরেও তা পরিশোধ করা হয়নি। সর্বশেষ চলতি মাসের ৩০ নভেম্বর শ্রমিকদের সকল পাওনাদি পরিশোধের দিন ধার্য করে বেপজা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন চিঠি কিংবা নোটিশ আকারে এখনো দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আজ (মঙ্গলবার) বকেয়া বেতন, আন লিভ সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের দাবি জানিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা।
লেনী ফ্যাশন ইউনিট- ১ এর নারী শ্রমিক শাহিদা পারভীন জানান, তিনি ওই কারখানায় সুইং হাইস্কেল অপারেটর পদে ১৭ বছর চাকুরী করেছেন। ২০২০ সালে একদিনের বন্ধ দিয়ে পাওনাদি পরিশোধ না করে কারখানা লে-আউট ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে বার বার পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু চারটি বছর পার হয়ে গেছে এখনো পাওনাদি পরিশোধ করেননি। চারটি ইউনিটের প্রায় সাড়ে সাত হাজার শ্রমিকের প্রায় ৬৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষ দুটি ইউনিট বিক্রি করে দিয়ে ৮৪ কোটি টাকা নিয়ে গেলেও শ্রমিকদের কোন পাওনা দেয়া হয়নি। অবলম্বে তাদের পাওনাদি বেপজা কর্তৃপক্ষকে পরিশোধের দাবি জানান।
হাসেম মোল্লা, রিনা, আখিসহ আরো বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাওনাদি পরিশোধের জন্য বার বার তারিখ পরিবর্তন করে। তবে নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখ সকল পাওনাদি দেয়ার তারিখ দেন বেপজা থেকে। কিন্তু এ সক্রান্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অবিলম্বে সকল পাওনা পরিশোধ করে দেয়ার দাবী জানান তারা।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম জানান, ডিইপিজেডের লেনী ফ্যাশনের শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। আমরা বেপজা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।

