বিল বকেয়া, তাই সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ইউপি ভবনে

0
78
ফাইল ছবি

শেরপুরের শ্রীবরদীর খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদে সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জনসাধারণ। পল্লী বিদ্যুৎ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পরিষদের সচিব বলেন, গত ২০ জুন থেকে এই পরিষদে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এতে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় জনগণ।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত মোট ৩ বছরে ৯৩ হাজার ৮শত ৮৬ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পরে ইউনিয়ন পরিষদের। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার কারণে একাধিক বার মৌখিক সতর্কতা করা হয়। কিন্তু কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় অবশেষে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পল্লী বিদ্যুৎ।

পরিষদে সেবা নিতে আসা বীরবান্দা এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ বলেন, জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে তিনদিন যাবৎ ঘুরতাছি। সচিবের কম্পিউটার বন্ধ তাই কোন কাজ করতে পারছে না। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।

মাদারপুর এলাকার বাসিন্দা রহিমদ্দিন বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসেছি একটি কাজের জন্য। কিন্তু বিদ্যুতের জন্য কাজ হলোনা। দুইদিন বাড়ি থেকে আবার ঢাকায় ফেরত যাচ্ছি।

ভাটি লঙ্গরপাড়া এলাকার খোকন মিয়া বলেন, গত ৪ দিন ধরে আমার বাবার মৃত্যু সনদ তোলার জন্য পরিষদে যাইতেছি। কিন্তু কারেক্ট না থাকার কারণে সনদ নিতে পারতেছি না।

খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব খাজা মো. বাকি বিল্লাহ বলেন, আসলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ব্যাপারে আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে কয়েকবার অবগতও করেছি।

শ্রীবরদী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম সূর্য্য নারায়ণ ভৌমিক বলেন, খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ বিল অনেক বকেয়া হয়ে গেছে। তাদের বার বার অবগতও করা হয়েছে। অন্যান্য অফিসের বকেয়া নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও তারা করছিলেন না। তাই তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বকেয়া ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া বলেন, এই বকেয়া খুব তারাতাড়ি পরিশোধ করা হবে। টাকার পরিমাণ বেশি হবার জন্য বকেয়া হয়ে গেছে। আমার আগের চেয়ারম্যানেরও টাকা বকেয়া রেখে গেছেন, তাই জমে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here