পাঁচ বছর আগে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানাকে গুলি করে দায়ে ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।
যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামিরা হলেন– কাজল মোল্লা, সেতু মোল্লা, সিরাজুল ইসলাম ওরফে শিপুল মোল্লা, লিটু মোল্লা, লিংকু শেখ এবং তপু খান ওরফে হাচিব মোল্লা।
এছাড়া আরও তৈয়েবুর গাজী, হুমায়ুন মোল্লা, লিমন মোল্লা, হৃদয় খান, টনি মোল্লা, সোহাগ মোল্লা, হাসমত মোল্লাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আর নজরুল মোল্লা, রবি মোল্লা, আবুজর মোল্লা ও সম্রাট মোল্লাকে এক বছর করে কারাদণ্ড, ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার ৩৬ আসামির মধ্যে বাকি ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘প্রমাণিত না হওয়ায়’ তারা খালাস পেয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুর রশীদ মোল্লা জানিয়েছেন।
নিহত মাসুদ রানা ছিলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৫ আগস্ট সকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নবগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের দেওয়াডাঙ্গা গ্রামের কাজলসহ তার লোকজন গুলি চালিয়ে মাসুদ রানাকে হত্যা করে। এ সময় আরও বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় মাসুদ রানার ভাই ছোট ভাই মামুন শেখ ৬ আগস্ট কালিয়া থানায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এস আই মিল্টন কুমার দেবদাস ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি নড়াইল জেলা থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় দিলেন।

