নাশকতাকারীদের বিচার করা হবে: সুশীলা

0
96

নেপালে সরকার পতন আন্দোলনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি। গতকাল রোববার সিংহ দরবার থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি বলেন, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত হবে এবং অপরাধীদের জনগণের সামনে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত শুক্রবার শপথ নেন কারকি। পরদিনই সিংহ দরবারে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আহত বিক্ষোভকারীদের জন্য তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কঠোর তদন্ত করা হবে। তাঁর ভাষায়, “মাত্র ২৭ ঘণ্টার বিক্ষোভে আমি এমন পরিবর্তন কখনো দেখিনি। জনগণের দাবি পূরণের জন্য সবাইকে দৃঢ়সংকল্পে কাজ করতে হবে।”

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম গতিশীল করতে মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। সূত্র জানায়, এবার বড় মন্ত্রিসভা নয়, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করতে চান কারকি। ইতিমধ্যে জেন-জি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় আইনজীবী ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের নাম উঠে এসেছে।

এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগও দেওয়া হয়েছে। গতকাল আইনজীবী সবিতা ভান্ডারিকে দেশের প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল, যা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কারকির পরামর্শে। বর্তমানে তাঁর হাতে ২৫টি মন্ত্রণালয় থাকলেও সবগুলোতে মন্ত্রী নিয়োগ না দিয়ে সীমিত মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা চলছে। সব পক্ষের সম্মতি মিললে আজ সোমবারই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভ-পরবর্তী সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল কাঠমান্ডুর একটি শপিং মল থেকে পুড়ে যাওয়া ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৫৯ জন বিক্ষোভকারী, ৩ জন পুলিশ সদস্য এবং ১০ জন বন্দী। উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর চেহারা বিকৃত হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।