উপসাগরীয় দেশ কাতারকে “যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করলেও দোহায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার পর কাতারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলকেও হামলার ক্ষেত্রে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “কাতার যুক্তরাষ্ট্রের মহান মিত্র হলেও তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এতটাই জটিল যে প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপে রাজনৈতিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “যখন আমরা আক্রমণ করি, তখন সাবধান থাকা জরুরি।”
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, ওয়াশিংটন এখনও দোহাকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, “কাতার ভৌগোলিকভাবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তাদের শব্দচয়নেও রাজনৈতিক সতর্কতা রাখতে হয়। তবে আমি নিশ্চিত, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মহান মিত্র।”
এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্কে ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানির সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হন। বৈঠকটি “খুব সফল” ছিল বলে জানায় কাতারি দূতাবাস। তবে একই সপ্তাহে মঙ্গলবার দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শীর্ষ হামাস নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে পাঁচ হামাস সদস্য ও এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। আন্তর্জাতিক মহল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।
ট্রাম্প হামলার পরই ইসরায়েলের একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তার দাবি, এ ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করছে না। তিনি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে কাতারকে সতর্ক করতে নির্দেশ দেন। তবে কাতারের অভিযোগ, তাদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল হামলার সময়ই, যখন হামাস নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দোহায় এই হামলার কারণে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কাতার এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সঙ্গে মিলেই প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। ইতোমধ্যেই ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

