যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন অভিযান’ ঠেকাতে সামরিক মহড়ায় ভেনেজুয়েলা

0
91

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য গোপন অভিযান ও সামরিক হুমকি মোকাবিলায় উপকূলজুড়ে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো জানিয়েছেন, এই মহড়ার লক্ষ্য শুধু বহিরাগত হুমকি প্রতিরোধ নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা।

শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে পাদ্রিনো বলেন, এই মহড়া ৭২ ঘণ্টা আগে শুরু হয়েছে এবং এখনও চলছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে বেড়ে যাওয়ার পর এই উদ্যোগ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী, যুদ্ধবিমান ও পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন মোতায়েন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিআইএকে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর অনুমোদন দেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে স্থল অভিযান চালানোর ঘটনাও বিবেচনায় রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, নয়টি উপকূলীয় প্রদেশে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বেসামরিক মিলিশিয়াদের একজনকে রাশিয়ার তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হাতে দেখা গেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দশটি কথিত মাদকবাহী নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে আটটি হয়েছে ক্যারিবীয় সাগরে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো নিজেই আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; তবে মাদুরো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো বলেন, সিআইএর মতো সংস্থার উপস্থিতি নতুন নয়, কিন্তু তাদের যেকোনো গোপন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য দেশটির সরকারকে উৎখাত করা।

মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড শিগগিরই এ এলাকায় যোগ দেবে। এ ছাড়া যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্রেভলি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো উপকূলে পাঁচ দিনের যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র : এএফপি