‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি শনিবার হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দর্শকদের মন জয় করেছেন। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে একের পর এক বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে উল্লাস ছড়িয়ে দেন এই রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার। দর্শকদের অভিবাদনের জবাবে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
ইন্টার মায়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেস ও রদ্রিগো দে পলকে সঙ্গে নিয়ে মেসি স্টেডিয়ামে পৌঁছান। সে সময় মাঠে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি একটি প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নিচ্ছিলেন। ভিআইপি বক্স থেকে খেলা দেখেন মেসি-সুয়ারেসরা।
কিছুক্ষণ পর মেসি নিজেই মাঠে নেমে আসেন। তিনি দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন, অটোগ্রাফ দেন এবং সবার সঙ্গে ছবি তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি, দে পল এবং সুয়ারেসের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করেন তিনি এবং দুটি গোলও করেন। খুদে ফুটবলারদের সঙ্গেও সময় কাটান এই মহাতারকা। মেসি ও দে পল দুজনই গ্যালারিতে বল পাঠান।
ম্যাচ শেষে মেসি জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, “এখানে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। হায়দরাবাদে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”
দে পল এই সন্ধ্যাটিকে ‘বিশেষ এক সন্ধ্যা’ বলে উল্লেখ করেন এবং দর্শকদের ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপ জিততে পারবে।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যোগ দেন। বিদায়ের আগে মেসি মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি এবং রাহুল গান্ধীকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি উপহার দেন।
এর আগে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতি ঘিরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, মাত্র ২০ মিনিট স্টেডিয়ামে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক নেতা ও অভিনেতাদের ভিড়ে অনেক দর্শক তাকে দেখতে না পাওয়ায় তার চলে যাওয়ার পর ভাঙচুর শুরু হয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের ঘোষণা দেন এবং উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ।
হায়দরাবাদে মেসির সফর তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল এবং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। কলকাতা ও হায়দরাবাদের পর মুম্বাই হয়ে দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে মেসির ভারত সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।