হত্যা মামলায় সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ ও তার ছেলের রিমান্ড মঞ্জুর

0
47

সাতক্ষীরায় দুটি পৃথক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ (৫৮) এবং তার ছেলে অমিনুল হাসান ওরফে রাসেলকে (৩৫) রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে শুনানি শেষে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডল সাবেক পিপি আব্দুল লতিফের চার দিন এবং তার ছেলে রাসেলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা, সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিশাত এবং উপ-পরিদর্শক আল আমিন, দুটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে অমিনুল হাসান ওরফে রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পৃথকভাবে ৫ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক আল আমিন জানান, তার তদন্তাধীন একটি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এজাহারনামীয় আসামি সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে, অপর হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক নিশাত জানান, তার মামলার গ্রেপ্তার আসামি অমিনুল হাসান ওরফে রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছিল। বিচারক শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সাতক্ষীরা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এ বি এম সেলিম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুস সাত্তার, তাকে সহায়তা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট তোজাম্মেল হোসেন তোজাম। আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট শফি-উল-ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাতক্ষীরা জজ আদালতের সাবেক পিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ স্বপরিবারে সাতক্ষীরা ছেড়ে খুলনায় পালিয়ে যান। তিনি খুলনার বয়রা এলাকার মৎস্য ভবনের পাশের গলিতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের বাড়ির তিন তলার একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন। এসময় আব্দুল লতিফ হত্যা ও নাশকতাসহ ৮টি এবং তার ছেলে রাসেল হত্যাসহ তিনটি মামলার আসামি হন।

সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার ৫ তলা বাড়ি ফ্লাট আকারে উকিল কমিশন করে বিক্রির সময় গত ১২ ডিসেম্বর সকালে খুলনার বয়রা এলাকার ওই বাসা থেকে সাতক্ষীরা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তাদেরকে আটক করে।

আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদরের কামারবায়সা গ্রামের মনসুর সরদারের ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তারা সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরের বাড়িতেই বসবাস করতেন।