তিন বছর পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

0
46

তিন বছরের বেশি সময় পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরিয়েছে। অর্থবছর ২০২১–২২ এর পর এই প্রথম রিজার্ভ এ মাত্রায় পৌঁছাল। এর ফলে দেশের আমদানি ব্যয় পরিশোধের সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই রিজার্ভ দিয়ে এখন বাংলাদেশ পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাসিক আমদানি ব্যয় ৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সেই হিসেবে বর্তমান রিজার্ভ বৈদেশিক লেনদেনে দেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালের মে মাসে তা নেমে আসে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে। সে সময় আন্তর্জাতিক পরিশোধ সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং আমদানি বিল, ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় পরিশোধ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।

গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়তে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগে টাকার মান ধরে রাখতে বাজারে ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরুতে নীতিতে পরিবর্তন আনে। ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা শুরু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল ডলারের অতিরিক্ত শক্তি কমানো এবং বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা। এ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি বেড়েছে ঠিকই, তবে তা নিয়ন্ত্রিত গতিতে।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা কড়াকড়ি থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।