বন্যকবলিত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিপিডিবির বিতরণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট রয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (কারিগরি) পরিতোষ সুত্রধর বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশের কিছু এলাকায় এখনও বন্যার পানি থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমাদের টিমগুলো সার্বোক্ষণিক মাঠে রয়েছে, পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ চালু করে দেওয়া হচ্ছে।
কিছু কিছু বাড়ির মিটার পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার কোন সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিতরণ অঞ্চলে কোন বিভ্রাট নেই বলে বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছেন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম জসীম উদ্দীন। তিনি বলেছেন সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বিভ্রাটের তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন্যাজনিত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও অবহিতকরণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। তাতে বিতরণ অঞ্চল চট্টগ্রাম থেকে ফোকাল কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন তিনি।
একেএম জসীম উদ্দীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, গতকাল (১৩ জুলাই) পর্যন্ত কিছু এলাকায় সমস্যা ছিল। আজকে আর কোথাও থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যায়নি। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, লংগদু বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র পানিতে তলিয়ে গেলেও পরে সরে যাওয়ার পর সরবরাহ সচল করা হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বর্তমানে চট্টগ্রামে এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ মানুষ সরাসরি পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় চার দশকের মধ্যে এমন নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার নজীর নেই।
সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং বাঁশখালীর বহু গ্রাম কোমর থেকে বুক সমান পানিতে নিমজ্জিত। অন্যান্য প্লাবিত এলাকা: লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
বন্যা, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড় ধসের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। টিউবওয়েল ও পানির উৎসগুলো তলিয়ে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় চরম সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারে রান্নাবান্না করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি বড় অংশ এখনো পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রাস্তাঘাট ধসে পড়েছে এবং নৌকা ছাড়া যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য চট্টগ্রামে শত শত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকারিভাবে চাল, নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সোমবার থেকে কিছু কিছু এলাকায় পানি ধীরগতিতে নামতে শুরু করেছে।