এম নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতি দিল বিসিবি

0
61

বিতর্কিত বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বসহ সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাজমুলের পরিবর্তে অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করে এবং বোর্ডের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় বিসিবি সভাপতি অবিলম্বে এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বোর্ডের দাপ্তরিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে চালু রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিসিবির গঠনতন্ত্রের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সভাপতির ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নিজেই অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষাই বোর্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বিসিবি জানায়, বোর্ডের অধীনে থাকা সব খেলোয়াড়ের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রেখে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাও জানায় বিসিবি।

সম্প্রতি ক্রিকেটারদের নিয়ে এম নাজমুল ইসলামের এক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এর আগে বিশ্বকাপ ইস্যুতে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি, যা নিয়ে সমালোচনা হয়। এসব ঘটনার জেরে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব নাজমুলের পদত্যাগ না হলে খেলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের দিনের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি এবং দ্বিতীয় ম্যাচ আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

এদিন দুপুরে রাজধানীর এক হোটেলে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন একটি শর্তে— ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি যদি প্রতিশ্রুতি দেয় যে নাজমুল আর বিসিবিতে থাকছেন না।

তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একজন পরিচালককে তার পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই—তিনি নিজে পদত্যাগ না করলে। গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্য হারানো, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি, দেউলিয়াপনা, পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা ইত্যাদি) পরিচালক পদ শূন্য ঘোষণা হতে পারে। নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।