ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ৬

0
53

ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে ছয়জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকদের মধ্যে চাকরিচ্যুত দুই পুলিশ সদস্য ও এক সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আটক ছয়জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য মো. কাজল ইসলাম জিকু, বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য মো. রুবেল রানা, চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু এবং মো. বশির হাওলাদার, মো. হীরা বেপারী ও মো. ফয়সাল রাব্বি। তারা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যমতে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে পদ্মা সেতুর উত্তর টোল প্লাজার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিবির চারটি পোশাক, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, একটি লেজার লাইট এবং ব্যবহৃত একটি হাইস মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তের টোল প্লাজায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সিলভার রঙের একটি হাইস মাইক্রোবাস সন্দেহজনকভাবে দ্রুত গতিতে কাউন্টার পার হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গাড়িটি থামায়। গাড়ির ভেতরে থাকা একজন ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজেকে ডিবি অফিসার পরিচয় দেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ চ্যালেঞ্জ করে। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে কাচ ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে ছয়জনকেই আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশ এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। তারা ঢাকা থেকে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাতায়াতকারী বাসযাত্রীদের টার্গেট করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বাস থামিয়ে তল্লাশির নামে যাত্রীদের নিজেদের গাড়িতে তুলে মারধর করে সর্বস্ব লুট করে নির্জন স্থানে নামিয়ে দিত।

মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (পদ্মা ডিবি) ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম জানান, ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে সরঞ্জামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।