শেরপুর-১ আসনে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ, আদালতে যাওয়ার ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর

0
24
শেরপুর-১ আসনে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ, আদালতে যাওয়ার ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় গণনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। একই সঙ্গে আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রিয়াঙ্কা ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে অর্ধলক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় হন।

প্রিয়াঙ্কা জানান, ভোটে অনিয়মের অভিযোগ ও ফল নিয়ে আপত্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে মামলা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বেশ কিছু ‘প্রমাণ’ উপস্থাপন করেন, যেখানে ফলাফলের শিটে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর-সিল নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের নাম, স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অনুপস্থিত।

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো কোনো প্রার্থীর দলীয় কর্মীরাই প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই পোলিং এজেন্টদের নাম ও স্বাক্ষর দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও স্বাক্ষরবিহীন ভোট গণনা বিবরণীপত্র শেরপুরের রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার কীভাবে গ্রহণ করলেন।

প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, নির্বাচনের পর কয়েকজন পোলিং এজেন্ট অনিয়মের তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করলে তারা হামলার শিকার হন। এতে সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়গুলো বারবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জানানো হলেও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার যথাযথ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেননি। তার দাবি, জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এসিল্যান্ড অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, বিএনপির ভোটার বেশি এমন এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ধীরগতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। হট্টগোল সৃষ্টি করে ধানের শীষের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হয়েছে, অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত এলাকায় ইচ্ছামতো জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মতো বড় দলের প্রার্থী হয়েও কোনো কেন্দ্রে মাত্র ৭টি, কোথাও ২৭, ৩৯, ৪৯ বা ৯৬টি ভোট পাওয়া কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দল এসব অভিযোগ সম্পর্কে অবগত কি না জানতে চাইলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, নির্বাচনের সময় সবাই নিজ নিজ আসন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তবে দল সবকিছু জানে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি কিছু ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শন করেন।