আমদানি শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

0
36
আমদানি শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আমদানি করা প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ৬–৩ ভোটে রায় দেন যে, ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছিল, তা প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। এই রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর, দুর্বলভাবে লেখা এবং অত্যন্ত অ্যান্টি-আমেরিকান’ বলে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে যেসব বিচারপতি তাঁর বাণিজ্যনীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাঁদের ‘বোকা’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার প্রথমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানান। কিন্তু পরদিন শনিবারই তিনি জানান, আগে কখনো ব্যবহৃত হয়নি এমন একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় এই হার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর বিধান প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন, যার আওতায় এই সাময়িক শুল্ক সর্বোচ্চ পাঁচ মাস পর্যন্ত কার্যকর রাখা সম্ভব। এরপর এটি অব্যাহত রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশোধিত ১৫ শতাংশ হার একই তারিখ থেকে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের পক্ষে ভিন্নমত পোষণ করেন তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স থমাস, ব্রেট কাভানাগ ও স্যামুয়েল আলিতো। অন্যদিকে রায়ের পক্ষে ছিলেন আদালতের তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি, প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং স্বয়ং ট্রাম্প মনোনীত দুই বিচারপতি এমি কনেই ব্যারেট ও নেইল গোরসাচ। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আইইইপিএ-র আওতায় ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে।

নতুন এই শুল্কহার যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশগুলোর জন্য বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যারা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ শতাংশ শুল্কহারে সমঝোতায় পৌঁছেছিল।

শুল্কনীতি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। তাঁর দাবি, এই নীতির ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিনিয়োগ ও উৎপাদনে উৎসাহিত হবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাবে। তবে সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৪ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতিগত এজেন্ডায় এক গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা প্রয়োগের ওপর আদালতের এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ বিশ্ব বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।