ফ্যামিলি কার্ডের মত ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

0
9
ফ্যামিলি কার্ডের মত 'কৃষক কার্ড' বিতরণ করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড বিষয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে। তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ড প্রদান আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ প্রথম বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী। ইনশাআল্লাহ, যত দ্রুত সম্ভব আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মতোই কৃষক কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছি।’

কবে নাগাদ কার্ড বিতরণ শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সময়টা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, কারণ প্রস্তুতির অনেক বিষয় রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করা। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্যে কাজ করছে।’

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে তা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান, এই কার্ডের আওতায় একজন কৃষক উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সার, কীটনাশক ও বীজের মতো কৃষি উপকরণে সহযোগিতা মিলবে। কৃষি জ্ঞান ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা হবে। স্মার্ট পদ্ধতিতে বাজার পরিস্থিতি, উৎপাদনের অবস্থা এবং আবহাওয়ার তথ্যও পাওয়া যাবে। ফলে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তির মাধ্যমে কৃষকরা উন্নত পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন।

প্রভাবশালী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ রুখতে সরকার ‘স্মার্ট কার্ড’ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘কোনো লিকেজ বা মধ্যস্বত্বভোগী যেন সুযোগ না পায়, সেজন্যই আমরা স্মার্ট কৃষক কার্ডের দিকে যাচ্ছি। একজন সিম ক্রেতা যেমন সরাসরি ব্যাংকিং বা অন্যান্য সেবা পান, তেমনি এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ফলে কৃষক সরাসরি সুবিধা পাবেন এবং রাষ্ট্রও তাঁদের সমস্যাগুলো সরাসরি জানতে পারবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের সব কৃষককেই এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে শুরুতে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা নির্ধারিত সংখ্যক কৃষক দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে এবং সফল বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে তা সারাদেশে সম্প্রসারিত করা হবে।