ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা এবং এর ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং গত সপ্তাহে সিনেটে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে নিশ্চিত করেছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও ইসরায়েলের তেল আবিবে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস এবং দুবাইয়ের কনস্যুলেট কার্যালয় আপাতত বন্ধ থাকবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, “সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশ ও বিদেশে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপদ রাখা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ওপর চলমান হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার এ পর্যন্ত ২৩টি বিশেষ বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যার মাধ্যমে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি অস্ট্রেলীয় নাগরিককে নিরাপদভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সিনেটে আলোচনা চলাকালে পেনি ওং ন্যাশনালস পার্টির সিনেটরদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জ্বালানি সংকট নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের ভীতি সঞ্চার করা বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ নয়; বরং সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবিসি নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুসারে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে এই মিশনগুলো পুনরায় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।