ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইসরায়েলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার স্পেনের সরকারি গেজেটে ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পদটি বিলুপ্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত তেল আবিবে অবস্থিত স্প্যানিশ দূতাবাসটি একজন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ বা অন্তর্বর্তীকালীন কর্মকর্তার অধীনে পরিচালিত হবে। মূলত গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মাদ্রিদ ও তেল আবিবের সম্পর্কের ফাটল দৃশ্যমান হতে থাকে।
গত বছরের মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলে, এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরায়েল স্পেন থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইসরায়েলি অস্ত্র বহনকারী কোনো বিমান বা জাহাজকে স্পেনের আকাশসীমা ও বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মাদ্রিদ। স্পেনের এই সিদ্ধান্তকে তখন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মোড় নেয়। যুদ্ধের বিরোধিতা করায় চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার স্পেনকে ‘স্বৈরশাসকদের সহযোগী’ বলে অভিযুক্ত করেন। পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে দুই দেশেই দূতাবাসগুলো পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূতের পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।