গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৮ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আহতদের মধ্যে ৩০ জনেরও বেশি সেনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের তথ্যানুযায়ী, আহত সেনাদের অনেকের মস্তিষ্কে ট্রমা (মানসিক আঘাত), শরীরে অগ্নিদগ্ধ এবং শার্পনেলের আঘাত রয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে তাঁর পা কেটে ফেলতে হতে পারে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে টেক্সাসের ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে একজন এবং ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ১২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি ২৫ জন জার্মানির ল্যানস্টুল রিজিওয়ানল মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আহত সেনাদের উদ্ধার এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি আহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সেবা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসাধীন অনেকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। আহত সেনাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা বর্তমানে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।