পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। সোমবার (১৬ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এবারের ঈদযাত্রায় রেলপথে নেই বড় কোনো ভোগান্তি। কঠোর শৃঙ্খলা ও সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি দেখা গেছে।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় প্রতিটি যাত্রীর টিকিট যাচাই করে তবেই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ কারণ ছাড়া টিকিটবিহীন কাউকে স্টেশনের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বেসরকারি চাকুরিজীবী রিয়াসাত, যিনি উপবন এক্সপ্রেসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন, বলেন, “অনলাইনে টিকিট কাটায় এবারের ঈদযাত্রা বেশ আরামদায়ক। স্টেশনেও তেমন বিশৃঙ্খলা বা ভিড় নেই, তাই ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রা শুরু করতে পারছি।”
শায়েস্তাগঞ্জের যাত্রী আজিজুল হকও একই সুর মেলালেন। তিনি বলেন, “অনলাইনে টিকিট কেটে কোনো সমস্যা হয়নি। সার্বিকভাবে এবার যাত্রা ভালোই লাগছে।” তবে কিছু যাত্রী টিকিট কাটার ক্ষেত্রে সামান্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সিলেটগামী যাত্রী মো. বিল্লাল বলেন, “অনলাইনে টিকিট কিনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। এসি কোচের টিকিট না পেয়ে শোভন চেয়ারের টিকিট কেটেছি। তবে সার্বিকভাবে কোনো ভোগান্তি নেই।”
অনলাইনে প্রচুর চাহিদা ও ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক যাত্রী টিকিট কাটতে পারেননি। তবে ঈদযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য স্টেশন থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাজমুল হক জানান, অনলাইনে কয়েকবার চেষ্টা করেও টিকিট পাননি। পরে স্টেশনে এসে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছেন। যারা স্ট্যান্ডিং টিকিট পাচ্ছেন না, তারা প্ল্যাটফর্মে এসে জরিমানা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, “এ পর্যন্ত ২০ জোড়া ট্রেন ঢাকা ছেড়েছে। এর মধ্যে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ আধা ঘণ্টা বিলম্বিত হলেও বাকি সব ট্রেন সময়মতো ছাড়ছে। আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, আশা করছি তা নিশ্চিত করবে যাত্রীদের ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা।”
সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা রেলপথে অপেক্ষাকৃত স্বস্তিদায়ক এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীদের চোখেমুখে দেখা যাচ্ছে ঘরে ফেরার আনন্দ, বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিলেন। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়ভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।