পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে টানা ৭ দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই ছুটির ফলে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে বড় ধরনের পণ্যজট ও ট্রাকজট সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী ২৪ মার্চ থেকে পুনরায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ঈদের দিন ছাড়া ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সীমিত আকারে কাস্টমস হাউসগুলো খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির মতে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ ছুটির কারণে বাস্তবে এই সময়ে কাজ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া ঈদের আগে-পরে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে পণ্য খালাস প্রক্রিয়াও প্রায় থমকে যাবে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ছুটির সময়ে কোনো আমদানিকারক চাইলে কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্য ডেলিভারি নিতে পারবেন। এছাড়া বন্দর এলাকায় নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আনসার ও নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বন্দর থানা পুলিশও সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দীর্ঘ ছুটির কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল সংকট দেখা দিতে পারে এবং সীমান্তের উভয় পাশে ট্রাকের দীর্ঘ সারি আরও বাড়বে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। যাত্রীচাপ সামলাতে ইমিগ্রেশন পুলিশ বাড়তি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।