আগামী তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে সর্বাধুনিক ও ডিজিটাল ‘হেলথ কার্ড’ বা স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এই কার্ডের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত ডিজিটাল পদ্ধতি, যেখানে মানুষের শরীরের জিনের তথ্য থেকে শুরু করে পূর্বের চিকিৎসার যাবতীয় রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তে ডাক্তার দেখালে রোগীকে নিজের সমস্যার কথা মুখে বলতে হবে না; কার্ড দেখলেই চিকিৎসক সব বুঝতে পারবেন।
বুধবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে দুস্থ ও গরিব জনসাধারণের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসেই সারা দেশে এই কার্যক্রম চলবে। কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সমুদয় সুদ মওকুফ করা হয়েছে এবং আগামী মাসেই ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের কাজ শুরু হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে জনবান্ধব করতে সরকার সজাগ দৃষ্টি রেখে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার প্রতিটি ইউনিয়নের মসজিদ, মন্দির ও গোরস্থানের উন্নয়নের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠনে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এ মুহাইমিন আল জিহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব মিয়া, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী উপজেলার ২৮২ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের অনুদান বিতরণ করেন।