কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে সকাল ১০টায় নামাজ শুরু হয়। ভোর থেকেই নরসুন্দা নদীর তীরবর্তী এই ঈদগাহমুখী সব সড়ক মুসল্লিদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। প্রায় দুই শতকের ঐতিহ্য ধরে রেখে আবারও জনসমুদ্রে পরিণত হয় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ।
জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। এতে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সময়সূচির সংকেত দেওয়া হয়। নামাজের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছোড়া হয়।
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। ড্রোন ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠে অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম, অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট এবং স্কাউট সদস্যরা কাজ করেন। এছাড়া যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে দুটি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়।